1. admin@bd24voice.com : BD24VOICE.COM : BD24 VOICE
  2. bd24voice@hotmail.com : BD 24 VOICE : BD 24 VOICE
  3. tusher719@gmail.com : BD 24 VOICE : BD 24 VOICE
  4. khandakarabusufian1994@gmail.com : BD 24 VOICE : BD 24 VOICE
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কিশোরগঞ্জ জেলা আঃ লীগ নেতা আনোয়ার কামালকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর কাঠ মোল্লাদের একাল সেকালের ফতোয়া – মুন্সি জাকির হোসেন জাতিসংঘে মাদক তালিকা থেকে বাদ গাঁজা এবং ওষুধ তৈরির অনুমতি ইন্টারপোলের রেড নোটিশঃ করোনা ভাইরাসের নকল ভ্যাকসিন বিক্রি হতে পারে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ১৭ জন ভারতীয়কে আটক করেছে কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচন আগামী ১৬ জানুয়ারি ডেঙ্গু জ্বরে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদিকার মৃত্যু কিশোরগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত যুবলীগের সাথে এক মিনিট লড়ার ক্ষমতা মামুনুল হকের নেই – নিক্সন চৌধুরী বাংলাদেশি কয়েকজন নাবিকদের জিম্মি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা

দেশের নর্দমার বর্জ্য পানিতে করোনার উপস্থিতি, গবেষণায় মিলেছে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রমাণ

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের বর্জ্য পানিতে পাওয়া গিয়েছে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের জিনগত উপাদান যা করোনাভাইরাসের জন্য দায়ী। এমনটাই দাবি করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য যার প্রমাণ মিলেছে।

এ বছরের জুলাই মাসে ২০ থেকে আগস্ট ২৯ তারিখে দেশের উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর ফরিদপুর টু স্টেডিয়ামে স্থাগিত করোনা আইসোলেশন সেন্টার এর আশপাশের নর্দমা, ড্রেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও শৌচাগারের সঞ্চালন লাইন থেকে বর্জ্য পানির নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। আর সংগ্রহীত নমুনায় ‘ওআরএফ১ এবি’ এবং ‘এন প্রোটিন’ জিনসহ করোনাভাইরাসের উপস্থিতি সফলভাবে শনাক্তকরণে সক্ষম হয়েছে গবেষকরা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, বর্জ্যপানি একটি যন্ত্র চালিত ছাঁকনি মেশিনের সাহায্যে আগে ছেঁকে নেওয়া পরে ময়লা নিচে চলে যায় এবং ওপরের পানি আলাদা করা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় পানি আবার ছাঁটলে সব ভাইরাসগুলো নিচে চলে যায়।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরটিপিসিআর পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই তলানি থেকে করোনা শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। সমগ্র পৃথিবীতে বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি প্রমাণে এবং ওয়েস্ট ওয়াটার (বর্জ্যপানি) ট্রিটমেন্ট কাজে ড্রেনের পানিকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করে আসছেন। বাড়ি নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম এ করোনা রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন সেন্টার এর নিকট ড্রেনের পানিকে নমুনা হিসাবে প্রাধান্য দেয় গবেষক টিম। গবেষকরা দাবি করেছেন এটাই প্রথম সফল প্রচেষ্টা বাংলাদেশে নর্দমা ও ড্রেনের পানিতে কোভ-২ আরএনএ শনাক্তকরণের।

গবেষণা প্রতিবেদনের নতুন দিক হচ্ছে, আইসোলেশন সেন্টার এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক কোভিড রোগীর ‘জেনেটিক লোডকে’ তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে অনুমান করা সম্ভব হবে পৃথিবীতে এসময়ে সম্পাদিত অনেক গবেষণার মতো এর মাধ্যমে কোনো দেশে কিংবা এর নির্দিষ্ট কোনো শহরে কি পরিমাণে কোভিড আক্রান্ত রোগী রয়েছে। বেশিরভাগ আক্রান্ত রোগীর শরীরে কোন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না বা সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও তাদের হাসপাতালে না রেখে বাড়িতে রাখা হচ্ছে। যে কারণে নর্দমার বর্জ্য পানি থেকেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে। এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনটিতে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রাথমিক সাফল্য এখানেই সেটি হল- একটি এলাকার সম্ভাব্য রোগীদের ওপর পরীক্ষার আগে উক্ত এলাকার ড্রেনের পানি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে এলাকায় করোনা রোগী আছে কিনা তা জানতে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট প্রফেসর ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে ড্রেনের পানি তথা বর্জ্যপানিতে কোভিড এর উপস্থিতি প্রমাণে গবেষকদের নতুন পদ্ধতিটি ভবিষ্যতে দেশে কোরোনাভাইরাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনে কোভিড-১৯ এর অস্তিত্বের প্রমাণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। দেশের গবেষকদের এমন উদ্যোগকে দেশের ড্রেন ও নর্দমার পানিকে নজরদারির আওতায় এনে কার্যকর ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গবেষক দলের প্রধান ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, যেহেতু সংক্রমিত কিংবা সংক্রমিত নয় উভয় ব্যক্তির শরীর থেকে নির্গত মলমূত্রের মাধ্যমেই ভাইরাস ছড়ায়। সুতরাং দেশে করোনা পরিস্থিতির সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ এবং সংক্রমণের উঠা-নামা সঠিকভাবে মূল্যায়নে বর্জ্যপানি নিরীক্ষণ একটি ফলপ্রসূ পদ্ধতি। সংগৃহীত অনেক কোভিড-১৯ রোগীর মলে ‘ওআরএফ১ এবি’ এবং ‘এন প্রোটিন’ জিনসহ বেশ কয়েকটি জিন এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফলে ড্রেন কিংবা নর্দমার বর্জ্যপানি পরীক্ষা করে কোনো এলাকায় করোনা আছে কিনা, তা জানা যেতে পারে।

নোবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. দিদার-উল-আলম গবেষণার কার্যক্রমের সার্বিকভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি জানিয়েছেন, ড্রেনের পানি তথা বর্জ্যপানিতে কোভিড এর উপস্থিতি প্রমাণে গবেষকদের নতুন পদ্ধতিটি আমাকে আনন্দিত ও উৎসাহিত করেছে। আমি আশা করি এটি দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের একটি নতুন পথের সন্ধান দিবে। তিনি আরও বলেন, দেশে মার্চে করোনা মহামারি শুরু হয়। গত ১১ মে থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অনুদানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ‘আরটি পি সি আর’ মেশিনে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রম চালু করা হয়। করোনা ল্যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্টাফ এবং শিক্ষার্থীরা নিরলস কাজ করছে। ইতিমধ্যে এ ল্যাবে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার দশ উপজেলার একুশ হাজার নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ সাফল্য অর্জনের পেছনে গবেষক দলটিতে যারা গবেষণা করেছেন বা টিমের অন্য সদস্যরা হলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মাকসুদ হোসেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেল্থ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের ডিন প্রফেসর হাসান মাহমুদ রেজা ও অধ্যাপক মো. জাকারিয়া, পিএইচডি এবং নোবিপ্রবির অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর, সহকারী অধ্যাপক ফয়সাল হোসেন, মো. শাহাদাত হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মো. মাইন উদ্দিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব