1. admin@bd24voice.com : BD24VOICE.COM : BD24 VOICE
  2. bd24voice@hotmail.com : BD 24 VOICE : BD 24 VOICE
  3. tusher719@gmail.com : BD 24 VOICE : BD 24 VOICE
  4. khandakarabusufian1994@gmail.com : BD 24 VOICE : BD 24 VOICE
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কিশোরগঞ্জ জেলা আঃ লীগ নেতা আনোয়ার কামালকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর কাঠ মোল্লাদের একাল সেকালের ফতোয়া – মুন্সি জাকির হোসেন জাতিসংঘে মাদক তালিকা থেকে বাদ গাঁজা এবং ওষুধ তৈরির অনুমতি ইন্টারপোলের রেড নোটিশঃ করোনা ভাইরাসের নকল ভ্যাকসিন বিক্রি হতে পারে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ১৭ জন ভারতীয়কে আটক করেছে কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচন আগামী ১৬ জানুয়ারি ডেঙ্গু জ্বরে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদিকার মৃত্যু কিশোরগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত যুবলীগের সাথে এক মিনিট লড়ার ক্ষমতা মামুনুল হকের নেই – নিক্সন চৌধুরী বাংলাদেশি কয়েকজন নাবিকদের জিম্মি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সৈয়দ নজরুলের লাশ গ্রহণ করেন মরহুম অ্যাড. শাহাদৎ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ১০৬৭ বার পড়া হয়েছে

আজ জেলহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্কময় একটি দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সবাইকে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিচক্র ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে ইতিহাসের নৃশংসতম কলঙ্কজনক ইতিহাস রচনা করে। আজকের এই দিনেই কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে জাতির জনকের বিশ্বস্ত সহচর মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে মোশতাকের খুনিচক্র।

বাঙালি জাতির সূর্যসন্তান জাতীয় চার নেতাকে হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশে থাকে সূর্যটি থেকে যায় কুৎসিত কালো মেঘে। বঙ্গবন্ধু ও ওনার পরিবারের সকলকে হত্যার পর খুনিচক্র বুঝতে পেরেছিল জাতীয় চার নেতা বেঁচে থাকলে স্বাধীন বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য কখনোই কুৎসিত কালো মেঘে ঢেকে দেওয়া সম্ভব হবে না। এই উপলব্ধি থেকেই খুনিচক্র কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। মোশতাকের নেতৃত্বে খুনিচক্র ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় কারাগার অভ্যন্তরে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বিপথগামী ঘাতক সেনা সদস্যরা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নজির আর একটিও নেই।

মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতার মধ্যে কিশোরগঞ্জের মাটি ও মানুষের ভালোবাসার নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম অন্যতম একজন ছিলেন। জাতির জনকের সবচেয়ে আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সৈয়দ নজরুল ইসলামকে আজকের এই দিনে কারাগারের অভ্যন্তরে হত্যা করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের লাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গ্রহণ করেছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন। সেদিনের স্মৃতিগুলো লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন তিনি স্মৃতির ডাইরির পাতায়। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের লাশ গ্রহণকারী মরহুম এ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেনের লেখা স্মৃতির ডাইরির পাতায় লিপিবদ্ধ থাকা ইতিহাস তুলে ধরা হলো-

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৫ সালে এলএলবিতে অধ্যায়নের সুবাদে বর্তমান জহিরুল হক হলে থাকতেন। ৭৫ সালে ৩ নভেম্বর সকাল ১০ ঘটিকায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে মৌন মিছিল নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় দলে দলে জমায়েত হতে থাকেন। সেদিনের মৌন মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ গর্ভধারিণী মাতা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে মৌন মিছিল শেষ করে যথারীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ফিরে আসেন শাহাদাত হোসেন। এমন সময় তৎকালীন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আতিকুল্লাহ চৌধুরী শাহাদৎ হোসেনের কাছে এসে বলেন একটা দুঃসংবাদ কি শুনতে পেয়েছো? ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে গত রাতে (২ নভেম্বর দিবাগত রাত) আর্মিরা গুলি করে হত্যা করেছে। আশেপাশের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়, তুমি এখনি আমার সাথে এসো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শাহাদৎ হোসেন ও অধ্যাপক আতিকুল্লাহ একটি রিকশা নিয়ে যত চলে গেলেন ১০৫ আরমানিটোলায় অবস্থিত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আপন মামা সৈয়দ আসাদুজ্জামান সাহেবের বাসায়। বিমর্ষ আসাদুজ্জামান স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন শাহাদাত হোসেন ও অধ্যাপক আতিকুল্লাহকে দেখার পর। এমন সময় ওই তিনজন বসে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনায় বসেন। এমন সময় সৈয়দ আসাদুজ্জামান আপন ভাতিজা ক্যাপ্টেন আনু একটি জিপ গড়ি নিয়ে উপস্থিত হলেন। এরপরই সৈয়দ আসাদুজ্জামান, শাহাদাত হোসেন, ক্যাপ্টেন আনু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।

কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল গেটে পৌঁছানোর পর একজন আর্মি অফিসার সৈয়দ আসাদুজ্জামানকে ধমক দিয়ে বললেন সাদা কাগজে স্বাক্ষর করেন সৈয়দ নজরুল ইসলামের লাশ গ্রহণ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এমন সময় সৈয়দ আসাদুজ্জামান বললেন লাশ দেখার পর তিনি স্বাক্ষর করে লাশ গ্রহণ করবেন। আর্মি অফিসার ও সৈয়দ আসাদুজ্জামানের কথা কাটাকাটির এক ফাঁকে ক্যাপ্টেন আনুর মধ্যস্থতায় লাশ দেখার পর কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে লাশ গ্রহণ করা হলো। ‌

সৈয়দ নজরুল ইসলামের লাশ গ্রহণ করে ১০৫ নাম্বার আরমানিটোলায় নিয়ে আসার পর শাহাদাত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লাশ গোসল ও জানাজার সকল ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এই অবস্থায় শাহাদাত হোসেন তার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হাইকে খবর পাঠালেন কয়েকজন লোক নিয়ে দ্রুত আরমানিটোলায় চলে আসার জন্য। ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতেই লাশ গোসল করিয়ে জানাজা শেষ করা হলো। লাশ দাফনের আগমুহূর্তে সৈয়দ আসাদুজ্জামানের বারান্দায় রাখা হলো সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও একমাত্র ভাইকে লাশ দেখানোর জন্য। ভোররাত চারটার দিকে আরমানিটোলার বাসায় এসে উপস্থিত হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও একমাত্র ভাই ওয়াহিদুল ইসলাম পট্টু মিয়া। কিছুক্ষণ পরেই ডিজিএফআইয়ের এক সদস্য শাহাদৎ হোসেনকে বললেন সৈয়দ নজরুলের ছোট ভাইকে দ্রুত স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। ডিজিএফআইয়ের সদস্যের কথা শেষ হতেই শাহাদাত হোসেন দ্রুত সৈয়দ নজরুলের ছোট ভাইকে পাশের বাসার দোতলার একটি নির্জন কক্ষে রেখে আসেন।

হত্যাকাণ্ডের পরের দিন (৪ নভেম্বর) সকাল ৮ টায় এ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন বাজিতপুর থানার আওয়ামী লীগ নেতা আজিজ মিয়াকে নিয়ে মোটর‌ বাইক যোগে চলে গেলেন ধানমন্ডির তাজ উদ্দিন আহমেদের বাসায় লাশ দেখার জন্য। তাজউদ্দিন আহমেদ এর লাশ দেখার পর পার্শ্ববর্তী আরেকটি বারান্দায় ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর লাশ রাখা ছিল সেটি দেখার পরেই সাহাদাত হোসেন ও আজিজ মিয়া মোটরসাইকেল করে দ্রুত চলে আসেন বনানী কবরস্থানে। সেখানে এসে তারা দেখতে পায় শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরের পাশেই জাতীয় চার নেতার কবর খোঁড়া হয়েছে এবং এখানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন স্পিকার আব্দুল মালেক উকিল, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শামসুল হকসহ হাজারের বেশি নেতাকর্মী ও জনতা।

কবরস্থানের অবস্থা দেখার পর শাহাদাত হোসেন ও আজিজ মিয়া দুপুর দুইটার দিকে চলে আসেন আরমানিটোলায় লাশ নিয়ে বনানী কবরস্থানে রওনা হওয়ার উদ্দেশ্যে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের লাশের কফিন নিয়ে শাহাদাত হোসেন আর্মির গাড়িতে উঠে বনানী কবরস্থানে লাশ দাফন করেন। ওই সময়ই সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও বাকি জাতীয় তিন নেতার লাশ দাফন করা হল বনানী কবরস্থানে। লাশ দাফন শেষে রাত দশটায় আরমানিটোলার ১০৫ নাম্বার বাসায় এসে সৈয়দ আসাদুজ্জামান ও অধ্যাপক আতিকুল্লাহ কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ফিরে আসেন জহিরুল হক হলের আবাসিক রুমে।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন তাঁর স্মৃতির ডাইরির পাতায় সে দিনের স্মৃতিগুলো এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন। আজকের এই দিনে শাহাদাত হোসেন পৃথিবীতে নেই। সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই চিরন্তন সত্য হচ্ছে মৃত্যু। ‌ জন্মের পর একটি সময় মানুষ মৃত্যুবরণ করে কিন্তু থেকে যায় ইতিহাস। কালের বিবর্তনে কিছু ইতিহাস বিকৃত হয়ে যায়, আবার কিছু ইতিহাস থেকে যায় অক্ষত। ‌ যাদের নেতৃত্বে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের এমন নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড সত্যিই মেনে নেয়া যায়না। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কলঙ্কময় ইতিহাস আর একটিও নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব